মিজানুরের সেঞ্চুরি, ৮ রানের আক্ষেপ জুনায়েদের
ডিটেকটিভ স্পোর্টস ডেস্ক
তানজিদ হাসান, আনিসুল ইসলাম ও মোহাইমিনুল খানের তিনটি ফিফটির পরও বিকেএসপির ব্যাটিং স্বর্গে বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি উত্তরা স্পোর্টি ক্লাব। মাঝারি লক্ষ্যে দারুণ এক সেঞ্চুরিতে দলকে পথ দেখিয়েছেন মিজানুর রহমান। মাত্র ৮ রানের জন্য সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে ফিরেছেন জুনায়েদ সিদ্দিক। দুই ওপেনারের দৃঢ়তায় সহজেই জিতেছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের চতুর্থ রাউন্ডে ৮ উইকেটে জিতেছে মোহাম্মদ শরীফের দল। ২৬৫ রানের লক্ষ্য ১০ বল বাকি থাকতে পেরিয়ে যায় তারা।
বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে বুধবার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শত রানের জুটিতে দলকে ভালো শুরু এনে দেন তানজিদ ও আনিসুল। আট চার ও দুই ছক্কায় ৭২ বলে ৫৮ রান করা আনিসুলকে ফিরিয়ে ১০১ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন চিরাগ জানি।
পরপর দুই ওভারে জনি তালুকদার ও তানজিদকে বোল্ড করে উত্তরাকে চাপে ফেলে দেন শরিফউল্লাহ। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ওপেনার তানজিদ ৯৫ বলে সাত চার ও এক ছক্কায় ফিরেন ৭৫ রান করে।
চতুর্থ উইকেটে পাকিস্তানি অলরাউন্ডার রাজা আলি দারের সঙ্গে ৫২ রানের জুটিতে ধাক্কা সামাল দিয়ে দলকে এগিয়ে নেন মোহাইমিনুল খান। রাজার বিদায়ের পর তেমন কোনো জুটি গড়তে পারেনি উত্তরা। অধিনায়ক মোহাইমিনুল ৫১ বলে ৬৪ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংসে দলকে নিয়ে যান আড়াইশ রানে।
রান তাড়ায় জুনায়েদের সঙ্গে শতরানের জুটিতে ব্রাদার্সকে ভালো শুরু এনে দেন মিজানুর। বোলারদের ওপর চড়াও হওয়া এই ওপেনারকে ফিরিয়ে ১৬১ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন রাজা।
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তৃতীয় সেঞ্চুরি পাওয়া ডানহাতি ওপেনার মিজানুর ১১৩ বলে ১০ চার আর পাঁচ ছক্কায় ফিরেন ১০৮ রান করে।
ফজলে মাহমুদের সঙ্গে ৯৩ রানের আরেকটি ভালো জুটিতে দলকে জয়ের খুব কাছে নিয়ে জুনায়েদ। বাঁহাতি এই ওপেনারকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন আবদুর রশিদ। ১১২ বলে খেলা জুনায়েদের ৯২ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস গড়া পাঁচটি চারে।
ভারতীয় অলরাউন্ডার জানিকে নিয়ে বাকিটা সারেন মাহমুদ। দলের জয়কে সঙ্গে নিয়ে ফেরা এই বাঁহাতি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের ৫৫ বলে খেলা ৫৭ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস গড়া চারটি চার ও তিনটি ছক্কায়।
শতরানের ইনিংসে চার ম্যাচে দলকে দ্বিতীয় জয় এনে দেওয়া মিজানুর জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাব: ৫০ ওভারে ২৬৪/৮ (তানজিদ ৭৫, আনিসুল ৫৮, জনি ২৩, মোহাইমিনুল ৬৪, রাজা ১৯, শাকির ১, মিনহাজ ৯*, মিনহাজুল ২, রশিদ ২; মেহেদি ০/২১, শরীফ ১/৪৫, নাঈম জুনিয়র ০/৫১, জানি ২/৫৭, শাখাওয়াত ০/২৬, শরিফউল্লাহ ২/৪৪, ইয়াসির ০/১৮)
ব্রাদার্স ইউনিয়ন: ৪৮.২ ওভারে ২৬৭/২ (মিজানুর ১০৮, জুনায়েদ ৯২, মাহমুদ ৫৭*, জানি ৯*; রশিদ ১/৪৫, গাফ্ফার ০/৬৬, রাজা ১/৩২, মোহাইমিনুল ০/৬২, শহিদুল ০/৪৪, আনিসুল ০/১৮)
ফল: ব্রাদার্স ইউনিয়ন ৮ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: মিজানুর রহমান